Skip to main content

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বলতে কি বোঝো? আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও আন্তর্জাতিক রাজনীতির মধ্যে পার্থক্য লেখ ? International Relations

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বলতে কি বোঝো? আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও আন্তর্জাতিক রাজনীতির মধ্যে পার্থক্য লেখ ?  উ:- “international politics, like all politics is a struggle for power”. - হ্যান্স জে মর্গেনথাউ  বর্তমান পৃথিবীতে এমন কোন রাষ্ট্র নেই যে সম্পূর্ণভাবে নিজের ওপর নির্ভর করে কিংবা অন্যদের কাছ থেকে আলাদা হয়ে বিচ্ছিন্নভাবে বাস করতে পারে। প্রত্যেক রাষ্ট্রই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে অপর রাষ্ট্রের উপর নির্ভরশীল। এভাবে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে রাষ্ট্র সমূহের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে পারস্পরিক নির্ভরশীলতা। রাষ্ট্রসমূহের এই পারস্পরিক নির্ভরশীলতার প্রতি দৃষ্টি রেখে দ্বন্দ্ব, যুদ্ধ ইত্যাদি এড়িয়ে সহযোগিতার মাধ্যমে কিভাবে বিশ্বে শান্তি ও সমৃদ্ধি প্রতিষ্ঠা করা যায়, মূলত এসব প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের উদ্ভব।   আন্তর্জাতিক সম্পর্কের সংজ্ঞা :- বর্তমানে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক একটি পৃথক রাষ্ট্রের মর্যাদা লাভ করলেও তার কোনো সুনির্দিষ্ট ও সর্বজনগ্রাহ্য সংজ্ঞা নেই। কোন কোন বিশেষজ্ঞের মতে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভিন্ন রাষ্ট্রের ম...

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বলতে কি বোঝো? আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও আন্তর্জাতিক রাজনীতির মধ্যে পার্থক্য লেখ ? International Relations

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বলতে কি বোঝো? আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও আন্তর্জাতিক রাজনীতির মধ্যে পার্থক্য লেখ ?
 উ:- “international politics, like all politics is a struggle for power”. - হ্যান্স জে মর্গেনথাউ
 বর্তমান পৃথিবীতে এমন কোন রাষ্ট্র নেই যে সম্পূর্ণভাবে নিজের ওপর নির্ভর করে কিংবা অন্যদের কাছ থেকে আলাদা হয়ে বিচ্ছিন্নভাবে বাস করতে পারে। প্রত্যেক রাষ্ট্রই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে অপর রাষ্ট্রের উপর নির্ভরশীল। এভাবে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে রাষ্ট্র সমূহের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে পারস্পরিক নির্ভরশীলতা। রাষ্ট্রসমূহের এই পারস্পরিক নির্ভরশীলতার প্রতি দৃষ্টি রেখে দ্বন্দ্ব, যুদ্ধ ইত্যাদি এড়িয়ে সহযোগিতার মাধ্যমে কিভাবে বিশ্বে শান্তি ও সমৃদ্ধি প্রতিষ্ঠা করা যায়, মূলত এসব প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের উদ্ভব।

 আন্তর্জাতিক সম্পর্কের সংজ্ঞা :- বর্তমানে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক একটি পৃথক রাষ্ট্রের মর্যাদা লাভ করলেও তার কোনো সুনির্দিষ্ট ও সর্বজনগ্রাহ্য সংজ্ঞা নেই। কোন কোন বিশেষজ্ঞের মতে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভিন্ন রাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করে।কারো কারো মতে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক শুধু রাষ্ট্রীয় স্তরে সীমাবদ্ধ থাকে না বিভিন্ন বেসরকারি ও আধা সরকারি পর্যায়ে নিয়ে আলোচনা করে। আবার অনেকে ক্ষমতা দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি আলোচনা করার পক্ষপাতি।

 • কে জে হলস্টির মতে :- কে জে হলস্টির মতে,আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বলতে দুই বা ততোধিক রাষ্ট্রের মধ্যে পারস্পরিক প্রতিক্রিয়ার প্রক্রিয়াকে বোঝায়।

 • পামার ও পার্কিন্সের মতে :- তাদের মতে, বিশ্বের সব মানুষ ও গোষ্ঠীর যাবতীয় সম্পর্ক, মানুষ্য - জীবন তাদের কার্যকলাপ ও চিন্তার প্রকৃতি নিয়ন্ত্রণকারী শক্তি চাপ ও প্রক্রিয়া নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক আলোচনা করে থাকে। 

মর্গেনথাউ এর অভিমত :- অধ্যাপক মর্গেনথাউ আন্তর্জাতিক সম্পর্ক কথাটির চাইতে আন্তর্জাতিক রাজনীতি কথাটির পক্ষপাতী। কারণ তার মতে আন্তর্জাতিক রাজনীতি হলো মূলত ক্ষমতা দখলের লড়াই । নিজ রাষ্ট্রের ক্ষমতা বৃদ্ধি করা ও অক্ষুন্ন রাখা এবং অপর রাষ্ট্রের ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ বা হ্রাস করার নিরবিচ্ছিন্ন প্রচেষ্টাকে তিনি আন্তর্জাতিক রাজনীতি বলে অভিহিত করেছেন।

 • জন হাউস্টনের অভিমত :- জন হাউস্টনের মতে, আন্তর্জাতিক সম্পর্কের সংজ্ঞায় বিভিন্ন মানের গোষ্ঠীর ভাবধারা ও মতাদর্শ জড়িত থাকে। তিনি বলেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক হল আন্তর্জাতিক সম্মেলন, কূটনীতিবিদদের আদান-প্রদান, চুক্তি সম্পাদন, সেনাবাহিনী নিয়োগ, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অবাধ প্রসার সহ বিশাল ও বৈচিত্র্যময় বিষয় সমূহের আলোচনা । 

 • হার্ট ম্যান এর অভিমত :- হার্ট ম্যান এর মতে, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক হল এমন একটি বিষয় যা বিভিন্ন রাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থের মধ্যে সামঞ্জস্য বিধানের প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করে ।

 • সাধারণ সংজ্ঞা :- উপরিউক্ত সংখ্যাগুলোর উপর ভিত্তি করে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের একটি গ্রহণযোগ্য সংজ্ঞা নির্ধারণ করা হয়েছে - আন্তর্জাতিক সম্পর্ক হল এমন একটি বিষয় যা বিভিন্ন রাষ্ট্রের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক, অরাষ্ট্রীয় সংস্থা ও প্রতিষ্ঠান, ক্ষমতা, রাজনৈতিক মতাদর্শ, যুদ্ধ ও শান্তি, নিরস্ত্রীকরণ, আন্তর্জাতিক সংগঠন, জনমত প্রচার, কূটনীতি, বিশ্ববাণিজ্য, সন্ত্রাসবাদ, বিশ্ব পরিবেশ প্রভৃতির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করো । 

 আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও আন্তর্জাতিক রাজনীতির মধ্যে পার্থক্য :- 
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও আন্তর্জাতিক রাজনীতি এই দুটিকে অনেক সময় একই অর্থে ব্যবহার করা হয় উদাহরণস্বরূপ অধ্যাপক মর্গেনথাউ আন্তর্জাতিক রাজনীতি শব্দটি ব্যবহারের পক্ষপাতী। অধ্যাপক পামার পারকিনস মন্তব্য করেছেন যে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও আন্তর্জাতিক রাজনীতির মধ্যে সুস্পষ্ট পার্থক্য বিদ্যমান কিন্তু বহু লেখক এই পার্থক্য অনুধাবন করতে ব্যর্থ হওয়ার জন্য আন্তর্জাতিক সম্পর্কের প্রকৃতি ও পরিধির প্রশ্নে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে।

 • পরিধি গত পার্থক্য :- আন্তর্জাতিক রাজনীতির আলোচনা ক্ষেত্রের পরিধি অপেক্ষা আন্তর্জাতিক সম্পর্কের পরিধি অনেক ব্যাপক। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও শুধু যে রাষ্ট্রগুলির মধ্যকার সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করে না, অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক এছাড়া ও রাষ্ট্রীয় সংগঠন প্রতিষ্ঠান গুলি এবং রাজনৈতিক সম্পর্ক নিয়েও আলোচনা করে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক রাজনীতি কেবল রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে আলোচনার পক্ষপাতী।
 
পামার ও পারকিনস এর অভিমত :- পামার ও পার্কিন্সের মতে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও আন্তর্জাতিক রাজনীতি থেকে ব্যাপকতার ধারণা।এদের মধ্যে আন্তর্জাতিক রাজনীতি হলো আন্তর্জাতিক সম্পর্কের রাজনীতি।আন্তর্জাতিক রাজনীতি কূটনৈতিক এবং বিভিন্ন রাষ্ট্র ও সংগঠনের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করে। অপরদিকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্বসমাজে সকল মানুষ ও গোষ্ঠী ও সকল প্রকার সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করে। 

 • বিষয়বস্তুগত পার্থক্য :- আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বাস্তববাদী তত্ত্বের প্রবক্তা হ্যানস জে মর্গেনথাউ আন্তর্জাতিক রাজনীতি বলতে প্রধানত ক্ষমতার লড়াই কে বুঝিয়েছেন। তার মধ্যে আন্তর্জাতিক রাজনীতি প্রধানত বিভিন্ন রাষ্ট্রের মধ্যে ক্ষমতাকেন্দ্রিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা, বিরোধ ও সংঘর্ষ নিয়ে আলোচনা করে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও বিভিন্ন রাষ্ট্রের মধ্যে সহযোগিতা ও প্রতিযোগীতামূলক সম্পর্ক, শত্রুতা ও মিত্রতা মূলক সম্পর্ক, সংঘর্ষ ও সমন্বয় সবকিছু নিয়েই আলোচনা করে। কাজেই আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিষয়বস্তু আন্তর্জাতিক রাজনীতির তুলনায় অনেক ব্যাপক।

 • দৃষ্টিভঙ্গিগত পার্থক্য :- আন্তর্জাতিক সম্পর্কের সঙ্গে আন্তর্জাতিক রাজনীতির দৃষ্টিভঙ্গি গত পার্থক্য বিদ্যমান। কে জে হলস্টির মতে, আন্তর্জাতিক রাজনীতির আলোচনাকে অনেক সময় পররাষ্ট্র সম্পর্কিত আলোচনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা হয়। এখানে মূলত বৃহৎ রাষ্ট্রগুলির ক্ষমতার উপাদান, পারস্পরিক সম্পর্ক ও ক্রিয়া-কলাপ প্রভৃতির ওপরে বেশি জোর দেওয়া হয়। কিন্তু আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়টি তা নয়, আন্তর্জাতিক সম্পর্কের সঙ্গে রাজনীতি, অর্থনীতি, আইন, যোগাযোগ ব্যবস্থা, আন্তর্জাতিক সংগঠন, বিশ্বযুদ্ধ প্রভৃতি বিষয় গুলি ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কযুক্ত। 

 • লক্ষ্য গত পার্থক্য :- আন্তর্জাতিক সম্পর্কের উদ্দেশ্য বিভিন্ন স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের মধ্যে কিভাবে শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপন করা যায় কিভাবে শান্তি-সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা করা যায় এগুলো নিয়ে আলোচনা করা। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক রাজনীতি রাষ্ট্রের মধ্যে কার রাজনৈতিক সম্পর্কের দিকে বেশি গুরুত্ব দেয়।

Comments

Popular posts from this blog

ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে পালিত নববর্ষ উৎসব / New year festivals of India's different states

  ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে পালিত নববর্ষ উৎসব গুলি হল -     উগাদি (তেলেগু এবং কন্নড় নববর্ষ) -  পালিত হয়:  অন্ধ্রপ্রদেশ, তেলেঙ্গানা, কর্ণাটক - তারিখ: চৈত্র মাসের প্রথম দিন (মার্চ-এপ্রিল) - ঐতিহ্য: আমের পাতা দিয়ে ঘর সাজানো, উগাদি পচাদি (একটি মিষ্টি এবং টক খাবার), ভাগ্য ভবিষ্যদ্বাণী করা | গুড়ি পদওয়া (মারাঠি নববর্ষ)   পালিত হয়:  মহারাষ্ট্র - তারিখ: চৈত্র মাসের প্রথম দিন (মার্চ-এপ্রিল) - ঐতিহ্য: গুড়ি (একটি রঙিন খুঁটি) উত্তোলন করা, শ্রীখণ্ড এবং পুরান পোলি খাওয়া, উপহার বিনিময় করা   পুথান্ডু (তামিল নববর্ষ) পালিত হয়:    তামিলনাড়ু  তারিখ: চিত্রাই মাসের প্রথম দিন (এপ্রিল-মে) - ঐতিহ্য: কোলাম দিয়ে ঘর সাজানো, পুথান্ডু সদম (একটি মিষ্টি ভাতের খাবার), মন্দির পরিদর্শন  বিষু (মালয়ালি নববর্ষ) : - পালিত হয়: কেরালা - তারিখ: প্রথম দিন মেদম মাস (এপ্রিল-মে) - ঐতিহ্য: বিষুকানি (শুভ জিনিসপত্রের প্রদর্শনী), বিষুসাধ্য (ঐতিহ্যবাহী খাবার) খাওয়া, আতশবাজি ফাটানো   পয়লা বৈশাখ (বাঙালি নববর্ষ): - উদযাপিত: পশ্চিমবঙ্গ - তারিখ: বৈশাখ মাসের প্রথম দিন ...

হাইকোর্টের গঠন, ক্ষমতা ও কার্যাবলী আলোচনা করো ? NOTES ON HIGH COURT COMPOSITION, POWER AND FUNCTIONS ?

  1 ) হাইকোর্টের গঠন , ক্ষমতা ও কার্যাবলী আলোচনা করো ? উঃ - ভারতীয় সংবিধানের ২১৪ নং ধারায় বলা হয়েছে ভারতের প্রত্যেকটি রাজ্যের একটি করে হাইকোর্ট বা মহা ধর্মাধিকরণ থাকবে । তবে পার্লামেন্ট আইন প্রণয়নের মাধ্যমে দুই বা ততোধিক রাজ্যের বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের জন্য একটি হাইকোর্ট গঠন করতে পারে [ ২৩১ ( ১ ) নং ধারা ] । হাইকোর্ট বা মহা ধর্মাধিকরণ হল রাজ্যের বিচারবিভাগীয় শীর্ষ আদালত । বর্তমানে ভারতে মোট ২৫ টি হাইকোর্ট রয়েছে । v গঠন :-        সংবিধানের ২১৬ নং ধারা অনুযায়ী প্রতিটি হাইকোর্ট একজন প্রধান বিচারপতি ও কয়েকজন অন্যান্য বিচারপতিকে নিয়ে গঠিত হবে । অন্যান্য বিচারপতিদের সংখ্যা রাষ্ট্রপতি নির্ধারণ করেন । হাইকোর্টের বিচারপতিদের নিয়োগ করার ক্ষমতা রাষ্ট্রপতি রয়েছে । Ø বিচারপতির যোগ্যতা :- হাইকোর্টের বিচারপতি পদে নিযুক্ত হওয়ার জন্য যেসব যোগ্যতার প্রয়োজন , সেগুলি হল- ১ ) বিচারপতিকে অবশ্যই ভারতীয় নাগরিক হতে হবে এবং ২ ) তাকে ভারতীয় ভূখণ্ডে অবস্থিত যেকোনো বিচারবিভাগীয় পদে কমপক্ষে ১০ বছর কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে অথবা অন্তত...