হাইকোর্টের গঠন, ক্ষমতা ও কার্যাবলী আলোচনা করো ? NOTES ON HIGH COURT COMPOSITION, POWER AND FUNCTIONS ?
1)
হাইকোর্টের গঠন, ক্ষমতা
ও কার্যাবলী আলোচনা করো ?
উঃ- ভারতীয় সংবিধানের ২১৪ নং ধারায় বলা হয়েছে ভারতের প্রত্যেকটি
রাজ্যের একটি করে হাইকোর্ট বা মহা ধর্মাধিকরণ থাকবে।তবে পার্লামেন্ট
আইন প্রণয়নের মাধ্যমে দুই বা ততোধিক রাজ্যের বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের জন্য একটি
হাইকোর্ট গঠন করতে পারে [২৩১(১) নং ধারা]। হাইকোর্ট বা
মহা ধর্মাধিকরণ হল রাজ্যের বিচারবিভাগীয় শীর্ষ আদালত। বর্তমানে ভারতে
মোট ২৫ টি হাইকোর্ট রয়েছে।
![]() |
v
গঠন :-
সংবিধানের
২১৬ নং ধারা অনুযায়ী প্রতিটি হাইকোর্ট একজন প্রধান বিচারপতি ও কয়েকজন অন্যান্য
বিচারপতিকে নিয়ে গঠিত হবে। অন্যান্য বিচারপতিদের সংখ্যা রাষ্ট্রপতি
নির্ধারণ করেন। হাইকোর্টের বিচারপতিদের নিয়োগ করার ক্ষমতা রাষ্ট্রপতি রয়েছে।
Ø
বিচারপতির যোগ্যতা :-
হাইকোর্টের
বিচারপতি পদে নিযুক্ত হওয়ার জন্য যেসব যোগ্যতার প্রয়োজন, সেগুলি হল-
১) বিচারপতিকে
অবশ্যই ভারতীয় নাগরিক হতে হবে এবং
২) তাকে ভারতীয়
ভূখণ্ডে অবস্থিত যেকোনো বিচারবিভাগীয় পদে কমপক্ষে ১০ বছর কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকতে
হবে অথবা অন্তত ১০ বছর কোন হাইকোর্ট কিংবা দুই বা ততোধিক এই ধরনের আদালতে আইনজীবী হিসেবে কাজ
করার অভিজ্ঞতা সম্পন্ন হতে হবে।
Ø
বিচারপতিদের নিয়োগ,বদলি ও কার্যকাল :-
হাইকোর্টের বিচারপতিরা রাষ্ট্রপতি
কর্তৃক নিযুক্ত হন।সুপ্রিম কোর্টের
প্রধান বিচারপতি এবং সংশ্লিষ্ট রাজ্যের রাজ্যপালের সঙ্গে পরামর্শক্রমে রাষ্ট্রপতি
হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি কে নিয়োগ করেন। অন্য
বিচারপতিদের নিয়োগের সময় রাষ্ট্রপতি সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি এবং রাজ্যপাল ছাড়াও সংশ্লিষ্ট
রাজ্যের হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির সঙ্গে পরামর্শ করতে পারেন। হাইকোর্টের
বিচারপতিরা বর্তমানে ৬২ বছর বয়স পর্যন্ত পদে আসীন থাকতে পারেন তবে প্রমাণিত
অসদাচরণ অক্ষমতার অভিযোগের ভিত্তিতে পার্লামেন্টের উভয় কক্ষের মোট সদস্যদের
অধিকাংশ এবং উপস্থিত ও ভোট দান কারী সদস্যের দুই-তৃতীয়াংশের সমর্থনে রাষ্ট্রপতি
অভিযুক্ত বিচারপতিকে অপসারিত করতে পারেন। রাজ্যে সঞ্চিত
তহবিল থেকে হাইকোর্টের বিচারপতিদের বেতন, ভাতা ইত্যাদি দেওয়া হয়।
v হাইকোর্টের ক্ষমতা ও কার্যাবলী :-
হাইকোর্টের ক্ষমতা ও কার্যাবলীকে নিম্নলিখিত সাতটি ভাগে ভাগ করে
আলোচনা করা যেতে পারে…
১) মূল
এলাকাভুক্ত ক্ষমতা :-
১) রাজস্ব – সংক্রান্ত সব বিষয়ই হাইকোর্টের মূল এলাকাভুক্ত ক্ষমতার
অন্তর্গত ।
২) তা ছাড়া , অনেক ক্ষেত্রে দেওয়ানী
ও ফৌজদারি মামলাকেও মূল এলাকার অন্তর্ভুক্ত বলে মনে করা হয়। তবে কেবল কলকাতা,
মুম্বাই ও চেন্নাই হাইকোর্ট দেওয়ানী ও ফৌজদারি মামলার প্রথম বিচার করতে পারেন।
(কিন্তু ১৯৭৩ সালে ফৌজদারি দণ্ডবিধি পরিবর্তিত হওয়ার ফলে
হাইকোর্টের ফৌজদারি মামলা সংক্রান্ত মূল এলাকাভুক্ত ক্ষমতার বিলোপ সাধন করা
হয়েছে।বর্তমানে কলকাতা, মুম্বাই ও চেন্নাই শহরে ফৌজদারি মামলার বিচার নগর দায়রা
আদালতে সম্পাদিত হয়।)
২ ) আপিল এলাকাভুক্ত ক্ষমতা
হাইকোর্টে রাজ্যের সর্বোচ্চ আপিল
আদালত। দেওয়ানী ও ফৌজদারি মামলার ক্ষেত্রে হাইকোর্টে আপিল করা যায়। দেওয়ানী মামলার ক্ষেত্রে :- জেলা জজ এবং অধস্তন জেলা জজের প্রদত্ত রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে
আপিল করা যায়। হাইকোর্টের কোন বিচারকের একক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেও হাইকোর্টে আপিল
করা যায়। এছাড়া আইন ও পদ্ধতিগত প্রশ্নে কোনো অধস্তন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে
আপিল মামলায় কোনো ঊর্ধ্বতন আদালত যে রায় দেন, তার বিরুদ্ধেও হাইকোর্টে আপিল করা
যেতে পারে। ফৌজদারি মামলার ক্ষেত্রে – দায়রা জজ এবং
অতিরিক্ত দায়রা জজ কোনো ব্যক্তিকে ৭ বছরের অধিক কারাদণ্ডে দণ্ডিত করলে।কয়েকটি
সুনির্দিষ্ট মামলার ক্ষেত্রে সহকারী দায়রা জজ, মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কিংবা
অন্যান্য বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেটের রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করা
যায়।
৩ ) নির্দেশ ,
আদেশ বা লেখ জারির ক্ষমতা :-
নিজ এলাকাভুক্ত
ভৌগলিক সীমানার মধ্যে বসবাস – কারী নাগরিকদের মৌলিক অধিকার সংরক্ষণের দায়িত্ব
হাইকোর্টের হাতে দেওয়া হয়েছে। হাইকোর্ট এই অধিকারগুলো সংরক্ষণের জন্য বন্দি –
প্রত্যক্ষীরণ , পরমাদেশ, প্রতিষোধ , অধিকার, উৎপ্রেষণ প্রভৃতি লেখা , নির্দেশ বা
আদেশ জারি করতে পারে ( ২২৬ – ১ নং ধারা ) ।
৪ ) আইনের বৈধতা বিচারের ক্ষমতা :-
মূল সংবিধানে হাইকোর্টের হাতে
কেন্দ্রীয় আইন ও রাজ্য আইনের বৈধতা বিচারের ক্ষমতা অর্পণ করা হয়েছিল। কিন্তু ৪২
তম সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে হাইকোর্টের হাত থেকে কেন্দ্রীয় আইনের বৈধতা বিচারের
ক্ষমতা কেড়ে নেওয়া হলেও ১৯৭৮ সালে ৪৩ তম সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে তদানীন্তন
দেশাই সরকার সেই ব্যবস্থা বাতিল করে দিয়ে পূর্বাবস্থা ফিরিয়ে আনে।
৫ ) তত্বাবধান সংক্রান্ত ক্ষমতা :-
সংবিধানের ২৭৭ নং ধারা অনুযায়ী
সামরিক আদালতে ও সামরিক ট্রাইব্যুনাল ছাড়া নিজ এলাকায় ভুক্ত অন্যসব আদালত ও
ট্রাইবুনাল গুলির তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব হাইকোর্টকে দেওয়া হয়েছে।
৬ ) মামলা
অধিগ্রহনের ক্ষমতা :-
সংবিধানের ব্যাখ্যা সংক্রান্ত
গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন জড়িত আছে এমন কোনো মামলায় নিম্ন আদালত থেকে নিজের হাতে নেওয়ার
ক্ষমতা হাইকোর্টের রয়েছে।
৭ ) নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত ক্ষমতা :-
হাইকোর্ট
অধস্তন আদালতগুলিকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন।জেলা আদালতসহ অন্যান্য অধস্তন আদালতের
কর্মচারীবৃন্দের নিয়োগ , পদোন্নতি প্রভৃতি বিষয়ে হাইকোর্ট বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ
ভূমিকা পালন করে।
৮ ) অন্যান্য ক্ষমতা:-
উপরের ক্ষমতাবলি ছাড়াও হাইকোর্টের
আরও কিছু ক্ষমতা আছে যেমন –
১) সুপ্রিম কোর্টের মতো হাইকোর্ট কেও
অভিলেখ আদালত হিসেবে কাজ করতে হয়।
২) হাইকোর্ট নিজ অবমাননার জন্য
অপরাধীদের শাস্তিদানের ব্যবস্থা করতে পারেন।
৩) হাইকোর্ট বিচারকার্য সম্পাদনের জন্য প্রয়োজনীয় নিয়মাবলী তৈরি করার অধিকারী।
Ø উপসংহার:-
হাইকোর্ট অঙ্গ রাজ্যের সর্বোচ্চ আদালত
হিসেবে ব্যাপক ক্ষমতার অধিকারী।অবশ্য ভারতীয় অঙ্গরাজ্য হাইকোর্ট মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্য
সর্বোচ্চ আদালতের সমকক্ষ নয়। ভারতের অখন্ড বিচার ব্যবস্থা থাকার জন্য হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে
সুপ্রিম কোর্ট আপিল করা যায়।সুতরাং দেখা যাচ্ছে হাইকোর্টে চূড়ান্ত বিচার বিভাগ নয়। এছাড়া
সংবিধানের ৪২ তম সংশোধনী অনুযায়ী ভারতীয় সংসদ হাইকোর্টের ক্ষমতা কে সংকুচিত করতে
পারে। সর্বোপরি দেশের জরুরি অবস্থা ঘোষিত হলে হাইকোর্টের আদেশ বা নির্দেশ
জারি করার ক্ষমতা বাতিল হতে পারে। (In India the
High court has to act as a subordinate body under the supreme court)

Comments
Post a Comment